Last Updated: 26 June 2026
পশ্চিমবঙ্গের Mid-Day Meal (বর্তমানে PM POSHAN) প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কলকাতা ও আশপাশের কিছু সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিল রান্নার দায়িত্ব ISKCON-কে দেওয়ার পর থেকেই মেনু নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ প্রোটিন যেমন সয়াবিন, রাজমা ও পনির রাখার বিষয়টি নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
কেউ বলছেন শিশুদের পুষ্টির জন্য ডিম গুরুত্বপূর্ণ, আবার কেউ মনে করছেন নিরামিষ খাবার দিয়েও প্রয়োজনীয় প্রোটিন দেওয়া সম্ভব। এই বিষয়টি নিয়ে সরকার, ISKCON, শিক্ষক, অভিভাবক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যও সামনে এসেছে।
এই প্রতিবেদনে সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি জানুন।
Mid-Day Meal কী?
Mid-Day Meal বা বর্তমানে PM POSHAN Scheme হলো কেন্দ্র সরকারের একটি প্রকল্প। এর উদ্দেশ্য হলো সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া।
এই প্রকল্পের ফলে—
- স্কুলে উপস্থিতি বাড়ে।
- অপুষ্টি কমাতে সাহায্য করে।
- দরিদ্র পরিবারের শিশুদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত হয়।

ISKCON-এর ভূমিকা কী?
রাজ্যের কিছু স্কুলে রান্নার দায়িত্ব ISKCON-কে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় বড় পরিসরে রান্না করে খাবার সরবরাহ করার অভিজ্ঞতা রাখে।
তাদের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বড় রান্নাঘরে খাবার প্রস্তুত করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
কেন শুরু হলো বিতর্ক?
বিতর্কের মূল কারণ হলো মেনু।
খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিরামিষ মেনুতে ডিমের পরিবর্তে সয়াবিন, ডাল, রাজমা ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রাখা হয়েছে।
এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—
- ডিম কেন থাকবে না?
- শিশুদের জন্য কোনটি বেশি উপকারী?
- একই পুষ্টিগুণ কি নিরামিষ খাবার থেকে পাওয়া সম্ভব?
এই বিষয় নিয়েই বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
সরকার কী বলেছে?
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোথায় কোন ধরনের খাবার দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
সরকারের দাবি, শিক্ষার্থীদের পুষ্টির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
ISKCON কী বলেছে?
ISKCON-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নিরামিষ খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যাপ্ত পুষ্টি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী—
- সয়াবিন
- ডাল
- রাজমা
- পনির
- সবজি
এসবের মাধ্যমে শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ব্যবস্থা করা যায়।
বিরোধীদের অভিযোগ
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, বহু শিক্ষার্থী নিয়মিত ডিম খেত এবং সেটি শিশুদের পুষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের দাবি, ডিম বাদ দিলে অনেক ছাত্রছাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পুষ্টিবিদরা কী বলছেন?
অনেক পুষ্টিবিদের মতে—
ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস।
অন্যদিকে সয়াবিন, ডাল, রাজমাও ভালো প্রোটিন দেয়।
তবে কোন খাবার কতটা উপযুক্ত হবে, তা শিশুদের বয়স, খাদ্যাভ্যাস এবং সামগ্রিক খাদ্যতালিকার ওপর নির্ভর করে।
অভিভাবকদের মত
অনেক অভিভাবক বলছেন—
“আমাদের সন্তান যাতে পুষ্টিকর খাবার পায়, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
আবার কেউ বলছেন—
“যদি ডিমের পরিবর্তে সমান পুষ্টি দেওয়া যায়, তাহলে আপত্তি নেই।”
শিক্ষকদের মত
শিক্ষকদের একাংশের মতে—
স্কুলে যে খাবারই দেওয়া হোক, সেটি যেন—
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়।
- সময়মতো পৌঁছায়।
- পর্যাপ্ত পরিমাণে দেওয়া হয়।
- শিশুদের খাওয়ার উপযোগী হয়।
Mid-Day Meal প্রকল্পের সুবিধা
- ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টি বৃদ্ধি
- স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানো
- অপুষ্টি কমানো
- দরিদ্র পরিবারের সহায়তা
- শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প | PM POSHAN (Mid-Day Meal) |
| রাজ্য | পশ্চিমবঙ্গ |
| আলোচনার বিষয় | ISKCON-এর নিরামিষ মেনু |
| বিতর্ক | ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ প্রোটিন |
| সম্ভাব্য বিকল্প | সয়াবিন, ডাল, রাজমা, পনির |
| লক্ষ্য | শিশুদের পুষ্টিকর খাবার |
কোন বিষয়গুলি জানা জরুরি?
- সরকারি নির্দেশিকা সময়ে সময়ে পরিবর্তন হতে পারে।
- সব স্কুলে একই ধরনের মেনু নাও থাকতে পারে।
- স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাবারের তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে।
- শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করুন।
FAQ
১. Mid-Day Meal কী?
এটি সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য চালু একটি পুষ্টিকর খাবার প্রকল্প।
২. ISKCON-এর ভূমিকা কী?
কিছু স্কুলে খাবার রান্না ও সরবরাহের দায়িত্ব ISKCON পালন করছে।
৩. ডিম কি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে?
এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কোন স্কুলে কী মেনু থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
৪. ডিমের বদলে কী দেওয়া হতে পারে?
সয়াবিন, ডাল, রাজমা, পনিরসহ অন্যান্য নিরামিষ প্রোটিনের খাবার রাখা হতে পারে।
৫. সরকারি তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?
পশ্চিমবঙ্গ সরকার, PM POSHAN এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে।
উপসংহার
West Bengal Mid-Day Meal প্রকল্পকে ঘিরে ISKCON-এর মেনু নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার মূল বিষয় হলো শিশুদের পুষ্টি। একদিকে ডিমের গুরুত্ব নিয়ে মতামত রয়েছে, অন্যদিকে নিরামিষ প্রোটিন দিয়েও পুষ্টি নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশিকা এলে সেই অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।
নোট: এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন ও প্রকাশ্য সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। নতুন সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।