নয়াদিল্লি: দেশের নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিজেপির প্রবীণ নেতা প্রহ্লাদ (Pralhad) জোশী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণ করার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে প্রহ্লাদ জোশীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
কে এই প্রহ্লাদ জোশী?

প্রহ্লাদ জোশী কর্ণাটকের ধারওয়াড় (Dharwad) লোকসভা কেন্দ্রের বহুবারের সাংসদ এবং বিজেপির অন্যতম সিনিয়র নেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি Consumer Affairs, Food & Public Distribution এবং New & Renewable Energy মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব তাঁর বিদ্যমান দায়িত্বের পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে।
কেন তাঁকে শিক্ষামন্ত্রী করা হলো?
সম্প্রতি NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কের পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর কেন্দ্র সরকার দ্রুত নতুন নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রহ্লাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়। সরকারের মতে, তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর কী বললেন?
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রহ্লাদ জোশী বলেন, তিনি “দায়িত্ববোধ ও বিনয়ের সঙ্গে” এই নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের সময়ে জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।
তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা
প্রহ্লাদ জোশী কলা বিভাগে (Arts) স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রকের নেতৃত্বে আনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন তাঁর সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রহ্লাদ জোশীর সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—
- NEET বিতর্কের পর শিক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনা।
- জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়ানো।
- জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP)-এর বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া।
- শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
উপসংহার
প্রহ্লাদ জোশীর হাতে দেশের শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন। আগামী দিনে তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে কী ধরনের সংস্কার ও সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের বিশেষ নজর থাকবে।